যে প্রশ্নগুলো মাথার মধ্যে ঘুরছে কিন্তু উত্তর অজানা

ভাবছেন আপনি তো একা কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন?

ভাবছেন আপনারা তো টাকা পয়সা নাই কাউকে সাহায্য করার মত, তাহলে কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন?

ভাবছেন আপনি একবেলা আহারের ব্যবস্থা করতে পারবেন কিন্তু সেই ধরনের অসহায় মানুষ আপনি কোথায় পাবেন?

আপনি টাকা পয়াসা দিয়ে সাহায্য করতে ইচ্ছুক কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অসহায় মানুষগুলোকে আপনি কিভাবে খুঁজে পাবেন?

আপনি এমন ভাবে সাহায্য করতে চাচ্ছেন যাতে এটা যেন ঐ সাহায্যপ্রার্থী কোন ভাবেই বুঝতে না পারে?

আপনার প্রতিবেশি অনেক কঠিন সময় পার করছে কিন্তু তাকে আপনি কিভাবে সাহায্য করবেন?

কিভাবে আপনি টাকা পয়সা খরচ না করেও,  হাজারো অনাহারী মানুষের আহারের ব্যবস্থা করতে পারবেন?

কিভাবে আপনি সমাজের দৃষ্টীভঙ্গী পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবেন?

 

উপরের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সহ সমাধান একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ করা সম্ভব।  ভাবছেন এটা কিভাবে সম্ভব? আপনি এখন পর্যন্ত যত ধরনের সামাজিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকেছেন, প্রতিটি সামাজিক কাজে তিনজন প্রধান স্টেকহোল্ডার ছিল। যে কোন সামাজাকি কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা প্রায় অসম্ভব, এই তিনজন প্রধান স্টেকহোল্ডার ব্যতিত।

 

নিচে তিনজন প্রধান স্টেকহোল্ডারদের নামসহ তাদের সম্ভাব্য কার্যক্রমগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে দিচ্ছি

 

সাহায্যকারী

  • যিনি সাহায্য করতে ইচ্ছুক।
  • সরাসরি অর্থ সহায়তা করতে চান।
  • উপকরন দিয়ে সহায়তা করতে চান।

সমন্বয়কারী

  • যিনি সারাসরি আর্থিক সহায়তা করতে পারবেন না।
  • কিন্তু শারীরিক ভাবে জড়িত থাকতে পারবেন।
  • সাহায্যপ্রার্থীকে খুঁজে পেতে সহায়তা করবেন।
  • সাহায্যপ্রার্থীকে সরাসরি সাহায্য পৌঁছিয়ে দিতে সহায়তা করবেন।
  • সাহায্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে পেতে সহায়তা করবেন।

সাহায্যপ্রার্থী

  • প্রকৃত পক্ষে যে ব্যক্তি/পরিবারের সাহায্যের প্রয়োজন।
  • আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন।
  • খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।
  • চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন।
  • বস্ত্র সহায়তা প্রয়োজন।

 

এই সাহায্যের প্রক্রিয়াটি সাধারনত দুইভাবে সম্পূর্ণ হয়ে থাকে- 

১। সাহায্যকারী + সমন্বয়কারী => সাহায্যপ্রার্থী  (এই  পদ্ধতিতে যে সাহায্যকারী সে নিজেই খুঁজে বের করবেন সাহায্যপ্রার্থীকে এবং তাকে সহায়তা করবেন। )

২। সাহায্যকারী => সমন্বয়কারী => সাহায্যপ্রার্থী ( এই পদ্ধতিতে যে সাহায্যকারী সে সমন্বয়কারীর (ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠান) সহায়তা নিয়ে সাহায্যপ্রার্থীকে সহায়তা করবেন। )

 

উপরের কন্টেন্টগুলো থেকে কিছুটা ধারনা আসছে আপনাদের, কিন্তু পুরোপুরি পরিস্কার হতে পারছেন না। বিষয়টি এখন পুরোপুরি পরিষ্কার করে দিচ্ছি কয়েকটি সামাজিক উদ্যেগের উদাহরন দিয়ে।

 

উদাহরণ ১ঃ

” রোড টু স্কুল ”  আমাদের একটা সামাজিক উদ্যোগের নাম। আমরা এইখানে যেটা করি সেটা হল,  রাস্তার পাশের ফুটপাতে যে সমস্ত মানুষ বসবাস করেন তাদের বাচ্চাদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেই। পাশাপাশি এই বাচ্চাদের কমিউনিটি গুলোতে বিভন্ন ধরনের সচেতনতা মূলক ক্যাম্পিং পরিচালনা করে থাকি। আমরা যদি একটু ভালোভাবে খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো এই উদ্যোগের কার্যক্রমগুলো সম্পূর্ণ হচ্ছে তিনজন প্রধান স্টেকহোল্ডারের মাধ্যমে।

  • সমন্বয়কারীঃ আমরা যারা (ভলেন্টিয়ার) এই  উদ্যোগটা নিয়ে কাজ করছিলাম।
  • সাহায্যকারীঃ যারা আমাদের এই সামাজিক উদ্যোগকে সফল করার জন্য ঐ ফুটপাতের বাচ্চাদের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন।
  • সাহায্যপ্রার্থীঃ ঐ কমিউনিটির বাচ্চারা। যাদের আমরা বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিচ্ছিলাম।

 

উদাহরণ ২ঃ

” ইয়াপ ফাউন্ডেশন ” আমাদের আরও একটা সামাজিক উদ্যোগের নাম।  আমরা এইখানে যেটা করি সেটা হল, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ, বন্যা কবলিত মানুষদের খাদ্য সহায়তা করা,  এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জরুরী অবস্থায় উপকরন  বিতরণ এবং অসুস্থ অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সহায়তা করা।  আমরা যদি একটু ভালোভাবে খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো এই উদ্যোগের কার্যক্রমগুলো সম্পূর্ণ হচ্ছে তিনজন প্রধান স্টেকহোল্ডারের মাধ্যমে।

  • সমন্বয়কারীঃ আমরা যারা (ভলেন্টিয়ার) এই  উদ্যোগটা নিয়ে কাজ করছিলাম।
  • সাহায্যকারীঃ যারা আমাদের এই সামাজিক উদ্যোগকে সফল করার জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন।
  • সাহায্যপ্রার্থীঃ ঐ অসহায় মানুষগুলো যাদের সাহায্যর প্রয়োজন ছিল।

 

উদাহরন ৩ঃ

“এনজিও প্রতিষ্ঠান “এবার যে কোন এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখতে পারবেন।  তাদের কার্যক্রমগুলো সম্পূর্ণ হচ্ছে তিনজন প্রধান স্টেকহোল্ডারের মাধ্যমে।

  • সমন্বয়কারীঃ এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে।
  • সাহায্যকারীঃ বিভিন্ন ধরনের দাতব্য প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যারা সরাসরি প্রকল্প ভিত্তিক আর্থিক সহায়তা করেছেন।
  • সাহায্যপ্রার্থীঃ বিভিন্ন প্রকল্প ভিত্তিক ক্যাটাগরির মধ্যে যে মানুষগুলো পরছেন তারা বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন।

 

আমরা যদি সাহায্যকারী, সমন্বয়কারী ও সাহায্যপ্রার্থী এই তিনজন প্রধান স্টেকহোল্ডারের সমুন্নয়ে যদি কোন রিয়েল টাইম কোন মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক কোন প্লাটফরম ডেভেলাপ করতে পারি। তাহলে আমরা সারা বাংলাদেশের অনেক ভালো মন-মানসিকতার সাহায্য পরায়ন মানুষগুলোকে একসাথে নিয়ে আসতে পারবো। যারা তার নিজ নিজ এলাকা থেকে সপ্রনদিত হয়ে কাজ করতে পারবে।

১। এটি সম্পূর্ণ নন প্রফিট প্রতিষ্ঠান হবে।

২। এখানে যারা কাজ করবেন তারা সবাই নিঃস্বার্থভাবে ভলান্টিয়ারি কাজ করবেন।

৩। সিস্টেমটি সম্পূর্ণরুপে স্বাধীন থাকবে।

৪। যে কেউ তার নিজ এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোজেক্টগুলোকে সাজিয়ে নিতে পারবে ( সম্পূর্ণ কাস্টমাইজেশন সুবিধা )।

৫। যে কোন সামাজিক ইনিশিয়েটিভকে ডিজিটালি পরিচালনা করতে পারবে।

৬।  ইনিশিয়েটিভগুলোর ব্যপারে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রানলয় অবগত থাকবে (ডিজিটাল প্লাটফরমের মাধ্যমে)।

 

আমাদের দেশে হাজার হাজার সামাজিক আইডিয়া ও ইনিশিয়েটিভ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।  ডিজিটালি যদি একটা একোসিস্টেম ডেভলাপ করা যায় তাহলে কিভাবে আমরা সুবিধা পেতে পারি,  তার একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারবেন।

” মানবতার দেওয়াল ” এই নামে যে ইনিশিয়েটিভটি সারাদেশ ব্যাপি পরিচিতি পেয়েছে। মানবতার দেওয়ালের মূল কার্যক্রম হল অসহায় মানুষ যাদের পরার মত বস্ত্র নেই এবং বস্ত্র ক্রয় করার সামর্থ্য নেই। ঐ সমস্ত মানুষের জন্য রাস্তার পাশে দেওয়ালে  পুরানো পরার মত বস্ত্র টাঙ্গিয়ে রাখা হয়। যে অসহায় মানুষের যার যেটা প্রয়োজন সে সেটা সেখান থেকে নিয়ে যায়। তাহলে পুরো বিষয়টা দাঁড়ালো

  • সমন্বয়কারীঃ যে মানবতার দেওয়ালটি রাস্তার পাশে তৈরি করলো।
  • সাহায্যকারীঃ যারা তাদের নিজেদের পুরানো বস্ত্র ঐ মানবতার দেওয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখলো।
  • সাহায্যপ্রার্থীঃ যাদের ঐ পুরানো বস্ত্রগুলো খুবই প্রয়োজন ছিল।

 

মানবতার দেওয়ালের অ্যাপ ভিত্তিক ডিজিটাল সল্যুশন

অ্যাপের মধ্যে এরকম কিছু

 

 

আমাদের লক্ষ্য  ও উদ্দেশ্যঃ 

আমরা আমাদের যে রিসোর্স/সামর্থ্য আছে সেটা নিয়ে যার যার অবস্থান থেকে একজন অন্যজনের সাহায্যে এগিয়ে আসা।

 

 

 

সামাজিক উদ্যোগের আইডিয়াটা হলঃ

১। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাহায্যকারী তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সাহায্যপ্রার্থীর কাছে সাহায্য পৌছিয়ে দিতে পারবেন।

২। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা ছাড়াও

 

 

সামাজিক উদ্যোগ ১ঃ

আপনি প্রতিদিন যা খাচ্ছেন না কেন। প্রতিবেলার খাবারের সাথে এক বেলা অতিরিক্ত

 

 

সামাজিক উদ্যোগ ২ঃ